ক্ষমতার লড়াইয়ে ঋণের বোঝা বাড়ছে বিশ্ব মাতব্বরদের

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
বর্তমান বিশ্বে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং শত্রুপক্ষের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রতিযোগিতায় দেশগুলোকে এক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জিডিপির তুলনায় ঋণের হার এতটাই বাড়ছে যে, দেশগুলোর শক্তি প্রদর্শনের ক্ষমতা এখন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গত পাঁচ বছরে ১০ বছর মেয়াদী বন্ডের সুদ তিনগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৩ শতাংশে। এছাড়া চীন, ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং জাপানের মতো দেশগুলোর ঋণের পরিমাণ এখন তাদের বার্ষিক মোট উৎপাদনের চেয়েও বেশি।
রাশিয়া তাদের যুদ্ধের খরচ মেটাতে জাতীয় সম্পদ তহবিল উজাড় করে ফেলছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোকেও ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ঢালতে হচ্ছে বিপুল অর্থ। কিন্তু এই ব্যয়বহুল পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। সম্ভাব্য শত্রুর ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি এটি প্রবৃদ্ধির গতিকেও কমিয়ে দিচ্ছে।
তবে এই ব্যয়ের প্রভাব সব দেশে সমান নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা খাতে গবেষণার ব্যয় অনেক সময় উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, যা আমেরিকা বা ইউক্রেনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হতে পারে।
তহবিলের উৎসের ক্ষেত্রে চীন বা জাপান সুবিধাজনক অবস্থানে আছে কারণ তারা অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আমেরিকা এখনও বিদেশি বিনিয়োগের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ডলারের বৈশ্বিক মর্যাদা আমেরিকাকে এতদিন সুরক্ষা দিলেও, ট্রাম্পের নীতি এবং অর্থনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা সেই আধিপত্যকে আলগা করছে। আর এই সুযোগেই মাথাচাড়া দিচ্ছে ইউরো, ইউয়ান বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো বিকল্পগুলো।
শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে সেই দেশই টিকে থাকবে, যাদের অর্থনীতি হবে সবচেয়ে শক্তিশালী। আমেরিকার প্রযুক্তি খাত এগিয়ে থাকলেও ট্রাম্পের নীতি ও অভিবাসন কড়াকড়ি তাদের কিছুটা দুর্বল করছে। অন্যদিকে, চীনের রপ্তানি মডেলেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা।
সব কিছু বিবেচনায় ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে ঋণের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতার ওপর বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।