চিকিৎসক নেই, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাবুর্চির হাতে চিকিৎসাসেবা

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে কোনো চিকিৎসক নেই। জনবল সংকটের সুযোগে সেখানে এক বাবুর্চি রোগী দেখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে তিনি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন, সরকারি ওষুধ বিতরণ করছেন এবং কখনো কখনো অর্থও নিচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, উপজেলার তিতাস নদীর পূর্ব পারে হরিপুর ইউনিয়নের জনৈক জাহিদার বাড়ির পাশে ১৯৯৯ সালে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। একসময় এটি আশপাশের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ছিল। তবে প্রায় এক দশক ধরে এখানে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই। বর্তমানে কেন্দ্রটির কার্যক্রম দেখভাল করছেন মো. রাকিব মোল্লা নামের এক ব্যক্তি, যিনি মূলত একজন বাবুর্চি (কুক মশালচি) হিসেবে কর্মরত।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহকারী থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে সব পদই শূন্য রয়েছে।
গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওষুধ নিতে আসা বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে রাকিব মোল্লার বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে। আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, ব্যথার ওষুধ চাইলে রাকিব মোল্লা তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে কয়েকটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দিয়ে তাঁকে চলে যেতে বলেন।
স্থানীয় গৃহবধূ শান্তা আক্তার বলেন, চুলকানির মলম নিতে গেলে তার কাছে ৫০ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি কাউকে না বলতেও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক বাসিন্দা মনির আহমেদ বলেন, সরকারি ওষুধ রোগীদের না দিয়ে বাইরে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় ওষুধ দিলেও টাকা নেওয়া হয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকিব মোল্লা। তাঁর দাবি, ওষুধের সংকট থাকায় অনেক রোগী ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাঁকে কেন্দ্র থেকে সরাতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযোগ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।