চাতরী চৌমুহনীতে ১৬ বছরের স্থবিরতা: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আটকে আছে মার্কেট উদ্বোধন

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারে জমির মালিক ও ডেভেলপারের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। প্রায় ১৬ বছর ধরে ঝুলে থাকা মার্কেট প্রকল্প এখন অনিশ্চয়তা ও হতাশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দোকান বুঝে পেলেও ব্যবসা শুরু করতে না পারায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা দিশেহারা।
নথিপত্রের তথ্য মতে, জমির মালিক মোহাম্মদ ইব্রাহীম গংদের কাছ থেকে ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সূচনা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপার লিমিটেড-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আবু তৈয়ব চৌধুরী চুক্তিপত্র ও আমমোক্তারনামার মাধ্যমে প্রকল্পটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নির্মাণাধীন অবস্থাতেই বিভিন্ন দোকান, অফিস ও স্পেস বিক্রি করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মালিকপক্ষ ও ডেভেলপারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে তা প্রশাসন, থানা ও আদালত পর্যন্ত গড়ায়। একাধিক সালিশি উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি।
২০১৯ সালে দায়ের করা সালিশি মামলার রায়ে ২০২৪ সালের ৩০ মে চুক্তিপত্রসহ বিভিন্ন দলিল বাতিল করা হয়। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে মামলা (নং ২৮৫/২৪) দায়ের করলে আদালত তা স্থগিত করে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে মার্কেট উদ্বোধনে আইনগত কোনো বাধা নেই। তবুও মালিকপক্ষের বাধা অব্যাহত রয়েছে।
২০২১ সালে প্রশাসনের নির্দেশে কাজ এগোলেও উদ্বোধনের আগে আবারও নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীরা নিজেদের অর্থ ব্যয়ে দোকানের কাজ শেষ করলেও এখনো চালু করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু হাইব্রিড রাজনৈতিক চক্রের প্রভাব ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কেট চালু বন্ধ রাখা হচ্ছে। এমনকি চাঁদাবাজ চক্র এই বিরোধকে পুঁজি করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, বৈধভাবে দোকান কিনেও বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হচ্ছি। এখন ব্যবসা শুরু করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইদ্রিস মাস্টার বলেন, জীবনের সঞ্চয় দিয়ে দোকান কিনে এখন চরম সংকটে আছি। দ্রুত সমাধান চাই।
ডেভেলপার আবু তৈয়ব চৌধুরী বলেন,
উন্নত পরিবেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু নানা বাধায় প্রকল্পটি ঝুলে গেছে। সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
জমির মালিক ইব্রাহীম সালিশি রায়ের কথা উল্লেখ করলেও রায় স্থগিতের বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।
ব্যবসায়ীদের আইনজীবী কাসেম কামাল বলেন, বর্তমানে দোকান চালু করতে কোনো আইনগত বাধা নেই।
ভুক্তভোগীরা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত সমাধান দাবি করেছেন।
তাদের মতে, ১৬ বছরের এই ভোগান্তির অবসান না হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।