শুক্রবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধকে জয়ী হতে হবে

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
স্বাধীনতাযুদ্ধ তখন শেষ হয়েছে। যুদ্ধের স্মৃতি তরতাজা। কিন্তু অনিশ্চয়তায় ছিল যোদ্ধাদল। পরবর্তী করণীয় নিয়ে গঠনমূলক দিকনির্দেশনা ছিল না বিজয়ীদের জন্য। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছিলেন তাঁরা যে যাঁর মতো।
এ সময় গ্রেনেড নামের একটা ছোটকাগজে ১১ নম্বর সেক্টরের প্রধান আবু তাহেরের একটা লেখা প্রকাশিত হলো ‘মুক্তিযোদ্ধারা আবার বিজয়ী হবে’ শিরোনামে। শিরোনামটা চমকে ওঠার মতো। একজন সেক্টর কমান্ডারকে এভাবে বলতে দেখে প্রশ্ন উঠল, একাত্তরের যোদ্ধারা কি হেরে গেছেন তাহলে?’
সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে আবু তাহের তখন বেসামরিক মানুষ। অতৃপ্তি নিয়ে ওই লেখায় তিনি বলছিলেন, একাত্তরের যোদ্ধারা বিজয়ী হলেও কার্যত হেরে যাচ্ছেন নেতৃত্বের কারণে। তাঁরা যুদ্ধে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে পরাজিত করতে পারলেও সেই সরকারি কর্মকর্তাদের সরাতে পারেননি, যারা স্থানীয় জনসমাজের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার বিরোধী ছিল। সে সময়ের অবস্থা নিয়ে কবি লিখেছেন, ‘ওসমানির কাগজ পেয়েছিল যে, সে মুক্তিযোদ্ধা—যে সই দিয়েছিল নিজের কাগজে, সে–ও মুক্তিযোদ্ধা।’
হতাশার আরও বড় জায়গাও ছিল। একাত্তর, নব্বই এবং চব্বিশেও বাস্তব অর্থনৈতিক-সামাজিক অবস্থা বদলানোর এমন কোনো কর্মসূচি পাওয়া যায়নি, যা জনতার বড় অংশের মেরুদণ্ড প্রতিদিন বাঁকা করে দেয় খানিকটা। ফলে জয়ী হয়েও যোদ্ধাদল হেরেছে। বাংলাদেশের প্রধান তিন রাজনৈতিক যুদ্ধের ইতিহাস অনেকটাই এ রকম।

সর্বাধিক পঠিত