শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

লামায় পর্যটকের ঢল, মুখরিত শতাধিক রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্র

লামা ( বান্দরবান ) প্রতিনিধিঃ
ঈদের আনন্দ আর দীর্ঘ ছুটিকে উদযাপিত করতে পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানের লামা উপজেলায় নেমেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ঢল। ঈদের তৃতীয় দিনেও এই পাহাড়ি জনপদের বিনোদন কেন্দ্র ও পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণপিপাসুদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো দর্শনার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেল থেকেই লামার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে লোকসমাগম বাড়তে শুরু করে। তবে ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে পর্যটকদের ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। লামার মিরিঞ্জা ভ্যালী, সুখিয়া ভ্যালীসহ শতাধিক পর্যটন রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্র এখন পর্যটকদের কোলাহলে মুখরিত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের সাথে দল বেঁধে ছুটে আসছেন পাহাড়ি জনপদে। কেউ জিপ ও মহিন্দ্র গাড়িতে চড়ে, আবার কেউবা মোটরবাইক নিয়ে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা ও উঁচু-নিচু পথ বেয়ে ছুটে চলছেন পছন্দের গন্তব্যে। তীব্র গরমের মাঝেও পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝর্ণার শীতল জল, চারপাশের সবুজ অরণ্য আর মেঘ-পাহাড়ের মিতালি যেন পর্যটকদের সব ক্লান্তি দূর করে দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মাঝে মিরিঞ্জা ভ্যালী ও সুখিয়া ভ্যালীর কটেজ ও ক্যাম্পিং সাইটগুলোর প্রতি বাড়তি আকর্ষণ দেখা গেছে।
​ঢাকা থেকে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে আসা এক পর্যটক জানান, “ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে লামায় এসেছি। মিরিঞ্জা ভ্যালীর ওপর থেকে চারপাশের পাহাড় আর মেঘের দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। এখানকার শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ পর্যটকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে।”
​এদিকে পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতির কারণে মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। উপজেলার শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পাশাপাশি স্থানীয় পরিবহন চালক ও গাইডদের ব্যস্ততাও বেড়েছে কয়েক গুণ। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ছুটির বাকি দিনগুলোতেও পর্যটকদের এই ধারা বজায় থাকবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
​লামা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভ্রমণপিপাসুরা কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

সর্বাধিক পঠিত