তবে আগে পরিকল্পনায় থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলসহ অংশীদারদের সঙ্গে সংলাপে বসছে না ইসি। সময়ের অভাব ও আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় সংলাপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি। তবে সার্বিক বিষয়ে সকল অংশীজন ও নাগরিকদের পরামর্শ-সুপারিশের সুযোগ থাকবে।
বর্তমানে স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে ভোট কার্যক্রম শুরু হবে- সেটা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের বলেছেন, বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আসার অপেক্ষায় আছে মন্ত্রণালয়। এরপর স্থানীয় সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সেই বিষয়ে ইসির সঙ্গে যৌথ বৈঠক করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সমকালকে বলেছেন, জুলাইয়ের মধ্যে সব ধরনের আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হবে। আগস্টে তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের এক থেকে দেড় মাস আগে তপশিল ঘোষণা করতে হয়। সে হিসেবে আগস্টে তপশিল হলে নির্বাচন গড়াবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে- সেটা নির্ভর করছে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই। তিনি বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে বর্ষা মৌসুমের (জুন-জুলাই) পরিস্থিতির ওপর। অক্টোবর থেকে মার্চ পযন্ত ভোটের উপযুক্ত সময়। এর মধ্যে বছর শেষে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সব বিষয় বিবেচনা করে যথাসময়েই সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।
২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বাজেট চাহিদা ইসির
ইসির বাজেট ও অর্থ শাখার কর্মকর্তারা জানান, এবারের বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। তবে চূড়ান্ত বাজেট বরাদ্দে কিছুটা কাটছাঁট হতে পারে। ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশের কথা রয়েছে।
ইসি বলছে, স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইসির চাহিদা রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৩৩০ কোটি টাকা, পৌরসভার জন্য ৩০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার চাহিদা রয়েছে। এই ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য চাওয়া হয়েছে ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ইসিতে বরাদ্দ আসে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। ইসি সাশ্রয় করেছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয় না করা তথা কৃচ্ছ্রতা সাধনের নীতি অবলম্বন করতে চায় ইসি।
ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব (বাজেট) শামসুল হক ফৌজদার বলেন, চলতি অর্থবছরের জন্য ইসি ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। তবে ইসির জন্য বরাদ্দ চূড়ান্ত অঙ্কটি বাজেট পেশের দিন জানা যাবে।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদ নির্বাচনে বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে ৮০০ কোটি টাকার মতো অব্যয়িত রয়ে রয়েছে। সেখানে অপ্রয়োজনীয় কোনো খরচ করা হয়নি, কৃচ্ছ্রতাসাধনও করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও চাহিদামতো বরাদ্দ থাকবে আশা করি। সেখানেও আমরা যথাসম্ভব ব্যয় কমিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করব। তবে ভোটের ব্যয়ে কখনও অর্থ সঙ্কুলানে ঝামেলা হয় না, যখন যা দরকার সরকার তা বরাদ্দ দেয়।