জিম্মি হওয়া যুবকেরা হলেন- নাজিমনগর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে নিলয় মিয়া (২২), রাশিদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩২), এখলাছ মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম (২৫), নূরু মিয়ার দুই ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০) ও জীবন মিয়া (২৫), টুনু মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (২৬), রাশিদ মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৮), ফয়জুন নূরের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪), শহিদ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৭), বাচ্চু মিয়ার ছেলে এনামুল হক (২৬), জলিল মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৯), জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নয়াহালট গ্রামের সামছু মিয়ার ছেলে আবুল হামজা (২৫) এবং সাচনা কালীবাড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২৮ জানুয়ারি তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে আবুধাবি, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখানে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি মাফিয়া চক্র তাদের জিম্মি করে। জিম্মি হওয়ার পর প্রতিজনের মুক্তিপণ হিসেবে প্রথমে ২৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দরকষাকষির পর মুক্তিপণ হিসেবে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
দালালদের মধ্যে গ্রামের কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দালাল চক্র ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
এদিকে জিম্মি হওয়া যুবকদের মধ্যে নূরু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও পরে লিবিয়ার পুলিশের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। জিম্মি যুবকেরা লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে আটক রয়েছেন।
মাফিয়া চক্র ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলছে। অনেক পরিবার জায়গা-জমি ও ঘরবাড়ি বিক্রি করে এবং সুদের মহাজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে মুক্তিপণ জোগাড়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তার পরও তাদের বুকের ধন উদ্ধার হবে কিনা এ নিয়ে তারা উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়ার আবুল হামজা তার বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান। ছেলের মুক্তির জন্য অসহায় মা মাফিয়াদের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘বাবা আমার কাছে টাকা নাই। আমি ভিক্ষা করে তোমাদের টাকা দেব, আমার হামজারে আর মারো না।’
জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী মিয়া শনিবার বিকালে ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, ‘ভিকটিমের কয়েকজন স্বজন শনিবার আমার সঙ্গে দেখা করে সাহায্য চেয়েছেন। আমি তাদেরকে আইনি সহায়তার জন্য লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। অভিযোগ পেলে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’