সোমবার, মে ৪, ২০২৬

কুমিরটির পেটে ছিল ৬ ধরণের জুতা আর মানুষের হাড়গোড়

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক 

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিখোঁজ এক ব্যবসায়ীর সন্ধানে নামা পুলিশ বাহিনীর এক কর্মকর্তার অসীম সাহসিকতা এখন টক অফ দ্য টাউন। হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে কুমির অধ্যুষিত নদীতে নেমে একটি বিশালাকার কুমিরকে বেঁধে ফেলেছেন ক্যাপ্টেন জোহান পটগিটার।
উদ্ধার কুমিরটির পেট পরীক্ষায় দেখা গেছে তার পেটে রয়েছে মানুষের দেহাবমেষ আর ছয় ধরণের ভিন্ন ভিন্ন জুতা।

কোমাটি নদীতে তল্লাশি চালানোর সময় ড্রোন ও হেলিকপ্টারের সাহায্যে একটি দ্বীপে বিশালাকার এক কুমিরকে শনাক্ত করা হয়।  মূলত ওই কুমিরটির পেটের ভেতর নিখোঁজ ব্যক্তির দেহাবশেষ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল।

সাড়ে চার মিটার লম্বা ও প্রায় ৫০০ কেজি ওজনের কুমিরটি নড়াচড়া করছিল না দেখে পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি সম্প্রতি বড় কিছু খেয়েছে। এরপর প্রাণীটিকে মেরে ফেলা হলেও সেটিকে উদ্ধার করা ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক।

যেকোনো সময় অন্য কুমিরের আক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও ভয় পাননি ক্যাপ্টেন জোহান পটগিটার। তিনি চলন্ত হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে সরাসরি কুমিরটির কাছে নেমে যান এবং সেটিকে শক্ত করে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর হেলিকপ্টারের সাহায্যে কুমির ও ক্যাপ্টেন উভয়কেই নদী থেকে তুলে আনা হয়।

কুমিরটিকে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার পেটের ভেতর সত্যিই মানুষের দেহাবশেষ রয়েছে। তবে আরো ভীতিজনক বিষয় হলো, সেখানে মানুষের হাড়ের পাশাপাশি ছয় ধরনের ভিন্ন ভিন্ন জুতোও পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কুমিরটি এর আগেও একাধিক মানুষকে শিকার করেছে।
উদ্ধারকৃত দেহাবশেষটি নিখোঁজ ব্যবসায়ীর কি না, তা এখন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। নিখোঁজ ব্যক্তির গাড়িটি গত সপ্তাহে বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়েছিল। এই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে বীরত্ব দেখানোর জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধান ক্যাপ্টেন জোহানের বিশেষ প্রশংসা করেছেন।
সূত্র: বিবিসি 

সর্বাধিক পঠিত