
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক:
হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার আর নেই। লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দিলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কারিনার মরদেহ রোববার বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা, সাবেক জাতীয় ফুটবলার কায়সার হামিদ। বিমানটি বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বনানী ডিওএইচএসে। সেখানে কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ মাগরিব প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর এশার আগে বনানী দরবার শরিফ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা এবং সোমবার বাদ জোহর তৃতীয় জানাজা শেষে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে দাফন করা হবে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর মায়ের দেওয়া মসজিদের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হবে।
এদিকে সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জানাজার আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছেন ছাত্র ও জুলাই যোদ্ধারা। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।
১৯৯৪ সালের ১১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা কারিনা কায়সারের বয়স হয়েছিল ৩৩ বছর। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও তিনি অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
কারিনার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা তাঁর প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব ও কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
