ঈদগাঁও বাজারে নির্দেশনা অমান্য করে সন্ধ্যার দোকান বন্ধে কড়াকড়িঃ জরিমানা নিয়ে ক্ষোভ

ঈদগাঁও প্রতিনিধিঃ
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঈদগাঁও বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে পরিচালিত এ অভিযানে বনফুল ও তাসমিন ইলেকট্রনিক্স নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখার দায়ে জরিমানা করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, ঈদগাঁও বাজারের প্রেক্ষাপটে দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পরই ক্রেতাদের সমাগম বেশি থাকে। এটি ব্যবসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তাদের মতে, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত স্থানীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযানের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তিনি লেখেন, “সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রান্তিক জনগণের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ সৃষ্টি করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রয়োজন হলেও তা যেন জনগণের জীবন-জীবিকা ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে স্থবির করে না দেয়। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ব্যবসায়ীদের সরকারি সময়সীমা মেনে চলার আহবান জানানো হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকার বাস্তবতার মধ্যে এক ধরনের বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী মহল মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। স্থানীয় অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে সচল রাখতে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় চিন্তাভাবনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।