উখিয়ায় ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে মারধর করা ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় দেয়ালে লেখা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা কর্তৃক থানায় এজাহার দায়েরের জেরে কয়েকদিনের টানটান উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। পূর্বের ঘটনার জেরে স্থানীয় এক এনজিও কর্মিকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মিদের মারধর থেকে ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলায় আহত হয়ে মা নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৭ মে) রাত ৮টার দিকে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ছৈয়দা খাতুন (৫৫) একই এলাকার ছব্বির আহমদের স্ত্রী।
ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের ছেলে এসএম ইমরান ওরফে আব্দুর রহমান ( ৩২)।
ভুক্তভোগী এসএম ইমরান বলেন, প্রায় সপ্তাহখানেক আগে স্থানীয় টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ছাত্রদলের চিকার নিচে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এতে তাকে ( এসএম ইমরান ) ১৩ নম্বর আসামি করা হয়। এরপর থেকে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মিদের ইন্ধনে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রতিদিনই পুলিশ কারও না কারও বাড়ীতে অভিযান অব্যাহত রাখে। এতে অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দেয়। গত বুধবার থেকে পরপর ৩ দিন তার বাড়ীতে অভিযান চালিয়েছে।
নিহত নারীর ছেলে অভিযোগ করে বলেন, “ শনিবার রাতে এসএম ইমরান বাড়ী অবস্থান করছিলেন। রাত ৮ টার দিকে তিনি বাড়ী থেকে বের স্থানীয় টাইপালং স্টেশনে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তার বন্ধু ও ছাত্রলীগ কর্মি মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা হলে দুইজনে আলাপ করছিলেন। এসময় ৭/৮ জন ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মি তাদের দেখতে পেয়ে অতর্কিত মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে মা, স্ত্রী ও ছোট বোন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। এসময় তাদেরকে মারধর করে হামলাকারিরা।
এতে বিএনপির নেতাকর্মিদের মারধর ও লাঠির আঘাতে তার মা ছৈয়দা খাতুন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। “
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সহ কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে এসএম ইমরান বলেন, “ ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিকদার ওরফে মিজান সিকদারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মি সহ নিরপরাধ লোকজনকে মিথ্যা অভিযোগ তুলে নানাভাবে হয়রানি করে চলছে। মিথ্যা অভিযোগে অনেককে আসামি করে মামলা বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। “
স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার, ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসান এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে হামলাটি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ওই নারীকে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।