রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

দেশের জার্সিতে ১ বছর পার করা হামজা বললেন, ‘জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত’

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক 
ত মার্চে প্রথমবার বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামেন হামজা চৌধুরী। দেখতে দেখতে লাল-সবুজ জার্সিতে এক বছর পূর্ণ করেছেন ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটির এই তারকা ফুটবলার। এক বছর বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা বললেন, ‘এটি আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।’
ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের জার্সিতে নিজের এক বছরের মূল্যায়ন করতে গিয়ে হামজা বলেন, ‘অসাধারণ! সত্যি বলতে, এটি আমার করা সেরা কাজ। এর চেয়ে দারুণ কিছু আমি আর চাইতে পারতাম না।’
এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার আক্ষেপ আছে হামজার। তবে হাল ছাড়ছেন না এই মিডফিল্ডার। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার আক্ষেপ তো আছেই। তবে এই কঠিন শিক্ষাগুলো আমাদের আরও শক্তিশালী করবে। সবাই হতাশ, কিন্তু আমি নিশ্চিত, যখন আমরা আমাদের খেলার ভিডিওগুলো আবার দেখবো, বুঝতে পারবো দল হিসেবে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।’
গত বছরের মার্চে অভিষেকের পর বাংলাদেশের জার্সিতে ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে খেলেছেন হামজা। ইনজুরির কারণে কেবল নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে ছিলেন না তিনি। তার খেলা সব ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। বাংলাদেশের জার্সিতে ৪টি গোল করেছেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।
বাংলাদেশকে বড় কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেননি হামজা। তবে ২০০০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের পর প্রথমবার এই যাত্রায় তলানিতে না থেকে শেষ করলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এছাড়া ২২ বছর পরে ভারতকে হারিয়েছে হামজা-সামিতরা।
হামজা বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য বড় একটি ধাপ। আমি মনে করি, গত এক বছরে আমরা দল হিসেবে অনেক দূর এগিয়েছি। সিঙ্গাপুরের মতো কোয়ালিফাই করা দলের মাঠে গিয়ে আমরা যে ফুটবল খেলেছি, তা নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত এবং আশা করি এটি সামনের ক্যাম্পেইনে আমাদের দারুণ কাজে দেবে।’
গত মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে গ্যালারিতে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি সমর্থক ছিলেন। সমর্থকদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ হামজা বলেন, ‘তারা সত্যিই অসাধারণ। আমার মনে হয়, তারা বিশ্বের সেরা সমর্থক। আমরা কোয়ালিফাই করতে পারিনি, ম্যাচটি মূলত সিঙ্গাপুরের উদযাপনের মঞ্চ ছিল, তারপরও নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে তারা এত বিপুল সংখ্যায় আমাদের সমর্থন দিতে এসেছেন! তাদের এই ঋণ শোধ করার মতো নয়।’
এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চোখ রাখছেন হামজা। তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মে হয়তো আমরা কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলবো। এরপর সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে, যেখানে আমরা শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা করছি। আমাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিজেদের ওপর সেই প্রত্যাশার চাপ তৈরি করেছে। এরপর আমাদের চোখ ২০২৭ সালের ক্যাম্পেইনের দিকে। ইনশাআল্লাহ, পরেরবার আমরা এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারবো।’

সর্বাধিক পঠিত