যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনা ব্যর্থ হলে অপেক্ষা করছে চারটি দৃশ্যপট

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক মধ্যস্থতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেদ্দায় সাম্প্রতিক আলোচনার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতের জন্য ৪টি সম্ভাব্য দৃশ্যপট তুলে ধরেছেন।
১. কৌশলগত বিরতি ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি
বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে অনেকেই স্থায়ী শান্তির বদলে একটি ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে দেখছেন। শর্তের অস্পষ্টতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে এই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি মূলত উভয় পক্ষকে নিজেদের সামরিক অবস্থান পুনর্গঠন ও পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতির সুযোগ দিচ্ছে। যদি আলোচনা সফল না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সরাসরি হামলার পথ বেছে নিতে পারে।
২. ‘ছায়াযুদ্ধ’ ও নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা
সবচেয়ে প্রবল সম্ভাবনা হলো দেশ দুটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে না জড়িয়ে একে অপরের ওপর সীমিত সামরিক চাপ বজায় রাখা। এক্ষেত্রে সরাসরি সংঘাতের বদলে প্রক্সি শক্তি বা ছায়া বাহিনীর মাধ্যমে ইরাক, লোহিত সাগর বা ইয়েমেনে তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এই ‘ছায়াযুদ্ধে’র ঝুঁকি হলো- একটি সামান্য ভুল হিসাব পুরো অঞ্চলকে অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
৩. পর্দার আড়ালে কূটনীতি
পাকিস্তানে আলোচনা ব্যর্থ হলেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কাতার, ওমান বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা এবং ইরানের ১০ দফা দাবির মধ্যকার বিশাল ব্যবধান কমানো না গেলে দ্রুত কোনো চুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ।
৪. দীর্ঘস্থায়ী নৌ অবরোধ ও হরমুজ প্রণালির সংকট
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে অর্থনীতিকে পঙ্গু করা এবং চীনের জ্বালানি সরবরাহে আঘাত আনাই এর লক্ষ্য। তবে এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীকে ইরানি হামলার সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলবে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য এমন এক ‘গ্রে-জোন’ বা অস্পষ্ট পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেছে যেখানে যুদ্ধ ও শান্তি একই সমান্তরালে চলছে। দেশ দুটি হয়তো সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে, কিন্তু কূটনৈতিক আলোচনার পথটিও একেবারে রুদ্ধ করেনি। এই কাঠামোগত অস্থিতিশীলতাই আগামী দিনগুলোতে অঞ্চলের নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে।