বুধবার, মে ৬, ২০২৬

শাপলা চত্বরে শহীদ রামুর মতিউর রহমানের পরিবারের বিচার প্রত্যাশা

সিরাজুল মোস্তফা আবির, রামু প্রতিনিধিঃ
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি এখনো গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার এক পরিবারের জীবনে। ওই ঘটনায় নিহতদের একজন ছিলেন কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়াঘোনা টিপাপাড়ার তরুণ মতিউর রহমান। সময়ের ব্যবধানে এক যুগ পেরোলেও তার শূন্যতা আজও মেনে নিতে পারেননি স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইসলামী মূল্যবোধ সংক্রান্ত দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী মতিউর। সেই রাতের অভিযানের পর থেকেই তিনি আর ফিরে আসেননি। পরিবারের দাবি, ওই অভিযানে তিনি নিহত হন।
মতিউরের বাবা আমানত উল্লাহ বলেন, “ছেলের কথা মনে পড়লেই বুকটা হাহাকার করে ওঠে। এত বছরেও আমরা কোনো উত্তর পাইনি। আমরা শুধু সঠিক বিচার চাই।”
স্থানীয়ভাবে এ ঘটনাকে ঘিরে এখনো আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, ওই রাতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে প্রকৃত সত্য সামনে আসে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায়।
হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতাদের মতে, শাপলা চত্বরের ঘটনার একটি নির্ভরযোগ্য তালিকা ও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি। তারা দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট মামলার বাদীপক্ষ জানিয়েছে, প্রমাণ সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
এক যুগ পরও শাপলা চত্বরের সেই রাত নিয়ে প্রশ্নের অবসান হয়নি। আর এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আজও অপেক্ষায় রয়েছে মতিউর রহমানের পরিবারসহ অনেক স্বজন।

সর্বাধিক পঠিত