
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে দুবাই থেকে হঠাৎ বাড়ি ফেরেন চট্টগ্রামের রাউজানের নয়ন শীল। তার বাড়িতে আসার এক ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রী প্রিয়া শীলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত প্রিয়া শীল (২৬) হাটহাজারি উপজেলার সরকার হাট এলাকার সুলাল শীল ও রুপ্না শীলের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে প্রিয়া শীলের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজান বাইন্যপুকুর পাড় এলাকায় নয়ন শীলের সঙ্গে। বিয়ের দীর্ঘ সময় পরেও দুজনের কোনো সন্তান হয়নি।
সেখানে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করেও সাড়া পাইনি। পরে দরজা ভেঙে ঢুকে দেখি সে বাথরুমের টিনের ছাদের বাঁশের সঙ্গে শাড়ি গলায় পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। তাকে সেখান থেকে নামিয়ে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা রুপ্না শীল বলেন, আমার মেয়ে প্রিয়ার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ফোন করে বলে ‘মেয়ে নালায় পড়ে গেছে। মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।
সেটি বলার পর আমরা ছুটে এসে দেখি, মেয়ে মারা গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৯ মে প্রিয়া আমাদের বাড়িতে ছিল। শ্বশুরবাড়িতে মেয়ে শান্তিতে ছিল না। তার সন্তান না হওয়া নিয়ে বিবাদ চলছিল।’
নিহতের ছোট বোন প্রিয়ংকা শীল ও ছোট ভাই বিজয় বলেন, ‘আমাদের বোন আত্মহত্যা করলে অনেক আগেই করতে পারত। ওর স্বামী আসার পর আত্মহত্যা করার মানে নেই।’
তারা বলেন, ‘বোনের স্বামী নয়ন আসার কথা ছিল আগামী ১০ জুন। সে আজ হঠাৎ করেই দেশে চলে আসে। তাদের দুজনের দূরত্ব ছিল, ঝগড়া হতো। তবে কি নিয়ে হতো জানি না। বোনের এ ঘটনার তদন্তপূর্বক বিচার চাই আমরা।’
এদিকে নিহত গৃহবধূর ভাসুর অশোক শীল ও ভাসুরের ছেলে দীপ্ত বলেন, ‘প্রিয়া ও তার স্বামীর মধ্যে তেমন কোন ঝামেলা আমরা দেখিনি। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কেন এমন হলো বোঝা যাচ্ছে না।’
রাউজান থানার (ভারপ্রাপ্ত ওসি) তদন্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন দেওয়ান জানান, দুপুর ১২টার দিকে নিহত গৃহবধূর মা রুপ্না শীল থানায় এসে তার মেয়ে বাথরুমে আত্মহত্যার খবরটি জানান। পরে সুরতহাল করে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠাই।
তিনি আরও জানান, মেয়ের সাথে তার স্বামীর সাংসারিক দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানতে পারি। যদিও লাশের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে এটা আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত রিপোর্টে যা আসে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
