লেবুতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড ডাটা সেন্ট্রালের তথ্যমতে, প্রতি ১০০ গ্রাম লেবুতে প্রায় ৫৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে এবং কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
এসব পুষ্টিগুণের কারণে লেবু পানিকে অনেক সময় শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করা, ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং চর্বি কমানোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ভিয়েতনামের মিলিটারি হাসপাতাল ১৭৫-এর পুষ্টি বিভাগের উপপ্রধান ডা. বুই থি ডুয়েন বলেন, সকালে লেবু পানি পানের মূল উপকারিতা হলো রাতে ঘুমের পর শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করা এবং সামান্য ভিটামিন সি সরবরাহ করা।
তিনি বলেন, লেবুর পানি শরীরের টক্সিন বের করে দেয় বা সরাসরি ওজন কমায়—এমন দাবির পক্ষে বর্তমানে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তার মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সামান্য উপকার মিলতে পারে যদি কেউ চিনি সমৃদ্ধ কোমল পানীয় বা বুদবুদ চায়ের পরিবর্তে লেবু পানি পান করেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, নিয়মিত অতিরিক্ত লেবুর রস পান করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে পারে। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, অ্যাসিডযুক্ত পানীয় দীর্ঘদিন সেবনে দাঁতের সুরক্ষামূলক আবরণ ধীরে ধীরে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে যদি পানীয়টি ঠিকভাবে পাতলা না করা হয় বা মুখের পরিচর্যায় অবহেলা থাকে।
এছাড়া খালি পেটে লেবুর পানি পান করলে গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সে ভোগা ব্যক্তিদের পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডা. ডুয়েন পরামর্শ দেন, আধা লেবুর রস ২০০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে কম চিনি দিয়ে পান করা ভালো। দাঁতের সুরক্ষায় স্ট্র ব্যবহার করা বা পান শেষে মুখ কুলি করার পরামর্শও দেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একক খাবার বা সকালের নির্দিষ্ট অভ্যাস কখনোই সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ, বেশি করে শাকসবজি ও মানসম্মত প্রোটিন খাওয়া এবং চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়াই স্বাস্থ্যকর জীবনের মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: সামা টিভি