সৈকতে ভিড় বাড়ছে, কক্সবাজারে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় ১০ স্থান

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে বেড়েছে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। টানা ছুটির সুযোগে পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই সৈকত ও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।
লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টসহ সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কেউ সমুদ্রস্নানে মেতে উঠছেন, কেউ আবার বালুচরে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রচণ্ড গরম ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে আগাম বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও ঈদের পর থেকে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে সন্তোষজনক বুকিং রয়েছে।
কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন ব্যবসায়ী আশা করছেন, ছুটির বাকি দিনগুলোতেও পর্যটকদের এ উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
কক্সবাজারে ঘুরে দেখতে পারেন যেসব স্থান
শাহপরীর দ্বীপ
টেকনাফের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপ থেকে সমুদ্র, মিয়ানমারের পাহাড় ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। নতুন নির্মিত সড়কটি পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ।
জাহাজপুরা গর্জন বন
মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত শতবর্ষী গর্জন গাছের এই বন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অনন্য গন্তব্য। বিশাল বৃক্ষরাজি ও সবুজ পরিবেশ মনকে প্রশান্ত করে।
স্বপ্নতরী পার্ক
রামুর রশিদনগর পাহাড়চূড়ায় নির্মিত এই বিনোদনকেন্দ্রে রয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী স্থাপনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়।
নিভৃতে নিসর্গ পার্ক
চকরিয়ার পাহাড় ও লেকঘেরা এই পার্কে কায়াকিং, নৌভ্রমণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক
বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্ক হিসেবে পরিচিত এই স্থানে মুক্ত পরিবেশে বিভিন্ন পশুপাখি দেখা যায়।
রামু বৌদ্ধ বিহার
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন এ এলাকায় রয়েছে ১০০ ফুট দীর্ঘ গৌতম বুদ্ধের মূর্তি, সীমাবিহার এবং একাধিক প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির।
আদিনাথ মন্দির
মহেশখালীর মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই তীর্থস্থান ধর্মীয় ও পর্যটন উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
সোনাদিয়া দ্বীপ
লাল কাঁকড়া, কেয়াবন, ম্যানগ্রোভ বন ও অপূর্ব সূর্যাস্তের জন্য সোনাদিয়া দ্বীপ প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।
মেরিন ড্রাইভ
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক দেশের অন্যতম সুন্দর ভ্রমণপথ। এক পাশে সমুদ্র, অন্য পাশে পাহাড়—যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
টেকনাফ জেটি ও মাথিনের কূপ
নাফ নদীর তীরবর্তী টেকনাফ জেটি এবং ঐতিহাসিক প্রেমকাহিনির স্মারক মাথিনের কূপ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
টেকনাফ ন্যাচার পার্ক
সবুজ পাহাড়, জীববৈচিত্র্য এবং নিরিবিলি পরিবেশের জন্য এটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সমুদ্রসৈকতের বাইরে কক্সবাজারে ছড়িয়ে থাকা এসব প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যথাযথ পরিচর্যা ও উন্নয়ন হলে বছরজুড়েই এসব স্থানে পর্যটকদের পদচারণা আরও বাড়বে।