কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জিয়াউল হক জিয়াসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চৌফলদণ্ডী পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা মনির মেম্বারের ছেলে জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি, মৎস্য প্রকল্প দখল, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ মার্চ রাতে জিয়াউল হক জিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী কামালের ছেলে রবিউল আলম, ফোরকানের ছেলে শাকিল আহমদ এবং কবির মেম্বারের ছেলে লালুর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের দখলে থাকা একটি মৎস্য প্রকল্পে হামলা চালিয়ে সেখানে ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আহত রবিউল আলম বাদী হয়ে গত ১৬ মার্চ কক্সবাজার সদর মডেল থানা-এ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিয়াসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিয়ার সৎ ভাই আবদুল্লাহকে আটক করেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জিয়াসহ অন্য আসামিরা পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ছমি উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কক্সবাজার সদর মডেল থানা বলেন, “ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।