বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

বৃদ্ধা মায়ের লাশে পচন নিয়ে ফখরুলকন্যার প্রতিক্রিয়া

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক

রাজধানীর মিরপুরে এক বৃদ্ধা নারীর পচা লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে প্রবীণদের নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে।
এ ঘটনায় বুধবার (৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা

সম্প্রতি মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে ৭২ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজখবর না নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এ ঘটনার পর দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে শামারুহ মির্জা বলেন, একজন মায়ের এমন পরিণতি শুধু একটি পরিবারের ব্যর্থতা নয়, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রবীণ সেবা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

তিনি মনে করেন, প্রবীণদের কল্যাণে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্য নিয়ে নানা আলোচনা হলেও বয়স্ক নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়।

শামারুহ মির্জা তার লেখায় প্রবীণদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রবীণ নিজ বাড়িতে থেকেই জীবন কাটাতে চান। এজন্য বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার সরবরাহ এবং চলাচলে সহায়তার মতো সেবাগুলো সম্প্রসারণ করা জরুরি।

এ ছাড়া প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়ন, বয়স্কদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারী তৈরির উদ্যোগ এবং সামাজিক একাকিত্ব দূর করতে কমিউনিটিভিত্তিক কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দেন তিনি।

তার মতে, দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে তাদের স্বাস্থ্য, আবাসন, আয় ও সামাজিক চাহিদা সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ এবং গবেষণাভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন সময়ের দাবি।

তিনি উপজেলা পর্যায়ে প্রবীণ সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, বিশেষ স্বাস্থ্যসুবিধা চালু, পরিচর্যাকারী প্রশিক্ষণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে সেবার পরিধি বাড়ানোরও প্রস্তাব দেন।

শামারুহ মির্জা বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বাবা-মায়ের সেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পরিবারের সদস্যরা যতদিন সম্ভব প্রবীণ স্বজনদের পাশে থাকবেন- এটাই প্রত্যাশিত। তবে বাস্তবতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তা কাঠামো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
তিনি মন্তব্য করেন, একজন মায়ের এমন করুণ পরিণতি পুরো সমাজের জন্যই বেদনাদায়ক এবং এটি ভবিষ্যতে প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
সূত্র: ফেসবুক

সর্বাধিক পঠিত