শনিবার, মে ৯, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে নিখোঁজ ২০০ মিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক 
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালির আকাশে নিখোঁজ হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন ‘এমকিউ-৪সি ট্রাইটন’। 
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় টানা তিন ঘণ্টার নজরদারি মিশন শেষে ফেরার পথে ড্রোনটি জরুরি সংকেত পাঠিয়ে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌ-ঘাঁটিতে ফেরার পথে হঠাৎ ইরানের দিকে সামান্য মোড় নেয় এবং জরুরি সংকেত (কোড ৭৭০০) পাঠাতে শুরু করে। এরপর দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে এটি নিখোঁজ হয়। তবে ড্রোনটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ইরানের পক্ষ থেকে ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নর্থরোপ গ্রুম্যান কোম্পানির তৈরি এই এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটির প্রতি ইউনিটের মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এটি মূলত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে উপসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত নজরদারির কাজে নিয়োজিত ছিল।Toshif Hasan (6)
এই ড্রোনটি ৫০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় উড়তে সক্ষম এবং একবারে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিতে পারে। সমুদ্রসীমার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রে এটিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম সেরা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরপরই এমন একটি ব্যয়বহুল ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিচালনার বিশাল ব্যয়ের হিসাবও সামনে এসেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় করছে। দৈনিক ব্যয়ের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৩৬ শতাংশ খরচ হচ্ছে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে, যার পরিমাণ দিনে প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া বিমান অভিযানের জন্য দৈনিক ২৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং নৌ-অভিযানের জন্য ১৫৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। থাড ও প্যাট্রিয়টের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পেছনে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডলার। বিপুল এই ব্যয়ের মাঝে ট্রাইটন ড্রোন নিখোঁজ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।Thumbnail Toshif Hasan  (4)
বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনী ড্রোনটির সন্ধানে ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আলোচনার সম্ভাবনা যখন তৈরি হয়েছে, তখন এই ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটন করা শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদি ড্রোনটি কোনোভাবে ভূপাতিত করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগত পানিসীমায় এমন একটি উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন হারিয়ে যাওয়া নিয়ে পেন্টাগন এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি

সর্বাধিক পঠিত