রবিবার, মে ১০, ২০২৬

ঈদগাঁও মেডিকেল হাসপাতালে কতৃপক্ষ ও নার্সের অবহেলার শিশুর মৃত্যু!

ঈদগাঁও প্রতিনিধি
ঈদগাঁও উপজেলার বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ঈদগাঁও মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে কতৃপক্ষ ও নার্সের অবহেলার কারণে সোহানা (১) নামের একশিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশু জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড, পুর্ব লরাবাক এলাকার আব্দু শুক্কুরের ছেলে মোহাম্মদ শাকিবের একমাত্র আদরের কন্যা।
পরিবার সূত্র জানায়, গত রবিবার (১২ জুলাই) সামান্য সর্দি-কাশি নিয়ে শিশুটিকে ঈদগাঁও মেডিকেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নজরুল ইসলামের কাছে নিয়ে যান বাবা-মা। ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশনে ওষুধ সেবনের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলে পরদিন (১৩ জুলাই) আবারও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিন ডাক্তার শিশুকে ইনজেকশনের মাধ্যমে Eryxion 1g (Ceftriaxone) নামক একটি অ্যান্টিবায়োটিক প্রদানের নির্দেশ দেন।
শিশুটির পরিবার জানায়, ফার্মেসি থেকে ইনজেকশনটি সংগ্রহের পর হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স জোসনা আক্তার তা মাত্র ১ মিনিটের মধ্যে দ্রুত পুশ করে দেন, যা শিশুর হাতে ফোলাভাব সৃষ্টি করে। এরপরও নার্স শিশুটির পরিবারকে এটা সাধারণ বিষয় বলে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
কিন্তু হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে শিশুটির শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। শুরু হয় খিঁচুনি। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় শিশুটিকে আবারও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির বাবা-মা অভিযোগ করেন, সামান্য সর্দি-কাশি ছাড়া তাদের সন্তানের তেমন কোনো জটিলতা ছিল না। নার্সের অদক্ষতা ও ইনজেকশন দ্রুত প্রয়োগের কারণেই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে নার্স জোসনা আক্তার বলেন, “আমি অন্য রোগীদের যেভাবে ইনজেকশন দিই, শিশুটিকেও সেভাবেই দিয়েছি। কোনো গাফিলতি করিনি। ইনজেকশনের সময় শিশুটির অবস্থাও ভালো ছিল।”
তবে ঈদগাঁও’র আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন এমবিবিএস ডাক্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, Eryxion 1g ইনজেকশন দ্রুত পুশ করা কোনো রোগীর ক্ষেত্রেই নিরাপদ নয়। এ ধরনের ওষুধ ১০–২০ মিনিট সময় নিয়ে ধীরে প্রয়োগ করতে হয়। দ্রুত প্রয়োগ করলে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, এমনকি রোগীর প্রাণহানিও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অদক্ষ, ট্রেনিংবিহীন নার্সদের এ ধরনের চিকিৎসায় যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রতিটি হাসপাতালে সনদপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ নার্স রাখার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।
ডা. নজরুল ইসলাম এই বিষয়ে জানান, আমি শিশুটিকে চিকিৎসা করেছি এবং শিশুর শারীরিক অবস্থা আগের ছেয়ে উন্নত ছিলো। পরবর্তীতে নার্স ইনজেকশন দিতে গিয়ে কি ভাবে পুশ করেছে এই বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে এরিকসন ইনজেকশন দ্রুততম পুশে শিশুর ক্ষতি হতে পারে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এহছান প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে জানান, শিশুটিকে ডা. নজরুল ইসলাম উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তুলে। বাচ্চা নিয়ে তারা বাসায় চলে যায়। আবার দুই-তিন ঘন্টা পরে পিতা-মাতা শিশুটিকে হাসপাতালে ফেরত আসলে ডাক্তার শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মছিউর রহমান জানান, স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনধরনের অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত