নতুন বার্তায় উপসাগরে ‘যুক্তরাষ্ট্রহীন ভবিষ্যতের’ দৃঢ়সঙ্কল্প মুজতাবা খামেনির

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
ইরানিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নতুন এক বার্তায় ‘যুক্তরাষ্ট্রকে উপসাগরীয় অঞ্চল ছাড়া করার’ দৃঢ়সঙ্কল্প ব্যক্ত করেছেন শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মুজতাবা খামেনি।
বৃহস্পতিবার তার এ লিখিত বার্তাটি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পড়া হয়। এতে বলা হয়, জাতীয় সম্পদ হিসেবেই ইরান তার ‘পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে’ সুরক্ষিত রাখবে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ চলবে বলে ট্রাম্পের অঙ্গীকারের পর মুজতাবার এ ঘোষণা এল, বলছে এনডিটিভি।
“দেশের ভেতরে-বাইরে থাকা ৯ কোটি গর্বিত ও মর্যাদাসম্পন্ন ইরানি তাদের সব ধরনের পরিচয়-ভিত্তিক, ধর্মীয়, মানবিক, বৈজ্ঞানিক, শিল্প ও প্রযুক্তি সক্ষমতা—ন্যানোপ্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবেই দেখে। এবং তারা সেগুলো সুরক্ষিত রাখবে, যেভাবে তারা দেশের পানি, ভূমি ও আকাশসীমা সুরক্ষিত রেখে এসেছে,” বলেছেন তিনি।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তখনকার সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর মুজতাবা বাবার দায়িত্বে আসেন। যদিও নতুন সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর তাকে এখনও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
‘আমেরিকাহীন ভবিষ্যৎ’
নতুন বার্তায় মার্কিনিদের তুমুল সমালোচনা করে মুজতাবা বলেছেন, কেবল পারস্য উপসাগরের ‘পানির একেবারে তলায়’ তাদের জায়গা হতে পারে।
“আল্লাহর শক্তি ও সাহায্যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হতে পারে আমেরিকাহীন ভবিষ্যৎ, যা অঞ্চলটির মানুষের উন্নতি, স্বাচ্ছন্দ্য ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
“আমরা এবং পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের পারে থাকা আমাদের প্রতিবেশিরা একই নিয়তির অংশীদার। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে যারা লোভ আর শঠতা নিয়ে এসেছে তাদের এখানে কোনো জায়গা নেই, কেবল পানির একেবারে তলা ছাড়া,” বিবৃতিতে বলেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘নির্লজ্জ পরাজয়’
ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় ঘটেছে দাবি করার পাশাপাশি মুজতাবা তার বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের ‘গুণ্ডা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
আমেরিকার যাবতীয় পরিকল্পনা ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ বরণ করেছে এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে এখন এক ‘নতুন অধ্যায়ের’ সূচনা হচ্ছে, বলেছেন তিনি।
এমন এক সময়ে তার এ মন্তব্য এল যখন মার্কিনিদের নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি বেশ চাপের মুখে পড়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। অবরোধের কারণে ইরান আগের মতো অবাধে তাদের তেল বিভিন্ন দেশে পাঠাতে পারছে না। মার্কিন সেনারা এরই মধ্যে খোলা সমুদ্রে একাধিক ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দও করেছে।
এই অবরোধের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকায় তেলের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। জুনে পৌঁছাবে এমন ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বৃহস্পতিবার ১২৬ ডলার পর্যন্ত উঠেছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
অন্যতম ব্যস্ত ও সঙ্কীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল-গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো।
ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হচ্ছে—অবরোধের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতির গলা চেপে ধরে তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে রাজি করানো এবং আলোচনায় বসতে বাধ্য করা। হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি তারা চায়, ইরান যেন আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে না পারে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে সীমিত করে এবং অঞ্চলজুড়ে থাকা প্রতিরোধ অক্ষের সদস্যদের কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে।
ইরান বলছে, আগে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজে নৌচলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমাধান না হলে তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
দুই পক্ষের এই অবস্থানের কারণে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও শান্তি আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় গড়িয়েছে। এর মধ্যেই ইরানকে চেপে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন ‘সামরিক অভিযানের’ পরিকল্পনা করছে বলে বেশ কয়েকটি পশ্চিমা গণমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে।