বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬

লিভারের সমস্যা এড়াতে নিয়মিত খাবেন যেসব খাবার

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক

শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো লিভার। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেওয়া, খাবার হজমে সাহায্য করা এবং শক্তি ধরে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কিন্তু অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, কোমল পানীয় এবং কম পানি পান করার কারণে ধীরে ধীরে লিভারে ক্ষতিকর পদার্থ জমতে থাকে। এতে দীর্ঘমেয়াদে ফ্যাটি লিভার, হজমের সমস্যা কিংবা আরও জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

তবে কিছু প্রাকৃতিক খাবার নিয়মিত খেলে লিভার ভালো রাখতে সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সাধারণ খাবার শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করতে এবং লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
রসুন
রসুনে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান লিভারের এনজাইম সক্রিয় করতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যালিসিন ও সেলেনিয়াম শরীর থেকে টক্সিন বের করতে ভূমিকা রাখে এবং লিভারকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।
সকালে খালি পেটে ১ থেকে ২ কোয়া কাঁচা রসুন খেতে পারেন। চাইলে হালকা গরম পানির সঙ্গেও খাওয়া যেতে পারে।

হলুদ

হলুদে থাকা কারকিউমিন নামের উপাদান লিভারের জন্য উপকারী বলে ধরা হয়। এটি লিভারে জমে থাকা চর্বি কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে।

 রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধে অল্প হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিদিন অন্তত দুইবার চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করার অভ্যাস করতে পারেন।
লেবু ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল
লেবু, আমলকি ও পেয়ারার মতো ফল শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করতে সাহায্য করে।
ভিটামিন সি লিভারকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সকালে কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। এছাড়া নিয়মিত আমলকি বা পেয়ারাও খাওয়া যেতে পারে।
সবুজ শাকসবজি
পালং শাক, ব্রকলি, করলা ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজিতে থাকা পুষ্টিগুণ রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এগুলো লিভারের পিত্তরস নিঃসরণেও সহায়ক। দুপুর বা রাতের খাবারে নিয়মিত সবুজ শাকসবজি রাখার চেষ্টা করুন। কম তেলে রান্না করা খাবার বেশি উপকারী।
লিভার ভালো রাখতে আরো যা করবেন
লিভার সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাপোড়া ও কোমল পানীয় কম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমও লিভারের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে কারো যদি আগে থেকেই লিভারের জটিল রোগ থাকে, তাহলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সর্বাধিক পঠিত