নাইক্ষ্যংছড়িতে অপহৃত তরুণীকে কক্সবাজারে হোটেল থেকে উদ্ধার, জড়িত সন্দেহে আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে তরুণীকে অপহরণের ১২ ঘন্টা পর কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল কক্ষে জিন্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার হয়েছে; এসময় অপহরণকাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস সহ জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শুক্রবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান, র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারি পরিচালক ( আইন ও গণমাধ্যম ) ও সহকারি পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।
গ্রেপ্তার শামসুল আলম (৩৩) কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ফাক্রিকাটা এলাকার ছুরত আলমের ছেলে এবং শাহ আলম (৩৪) কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া ঘাটপাড়ার মমতাজ আহমেদের ছেলে।
ভুক্তভোগী তরুণী ( ২৩ ) বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
আ. ম. ফারুক বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর এলাকা থেকে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ পাচারকারি চক্রের সদস্যরা কৌশলে তুলে নিয়ে আসে। পরে ওই তরুণী কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা সংলগ্ন হোটেল-মোটেল জোন এলাকার ‘হাইপ্রিয়ান সীপার্ল’ নামের আবাসিক হোটেল নিয়ে যায়। পরে হোটেলটি ৬/সি নম্বর কক্ষে তরুণীকে আটকে রাখে দুর্বৃত্তরা।
খবরটি অবহিত হওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধারে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে হোটেলটিতে ভুক্তভোগী তরুণীকে জিন্মি রাখার খবরে র্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। এতে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহজনক ২ জন কৌশলে পালানোর চেষ্টা চালায়। এসময় ধাওয়া র্যাব সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে হোটেল কক্ষটি তল্লাশী করে জিন্মি অবস্থায় ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এসময় হোটেলের পার্কিং থেকে অপহরণকাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানান, র্যাবের এ কর্মকর্তা।
আ. ম. ফারুক জানান, গ্রেপ্তার আসামিরা সংঘবদ্ধ পাচারকারি চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ নারী-পুরুষকে নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে কৌশলে নিয়ে এসে অনৈতিক কাজে বাধ্য করত। মূলত প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় তরুণী ও নারীরা ছিল চক্রটির টার্গেট। আর জব্দ করা মাইক্রোবাসটি অপহরণকাজে ব্যবহার করত।
উদ্ধার তরুণীকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর এবং আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।