রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

ঈদগাঁওতে বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

ঈদগাঁও প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার দক্ষিণ মেহেরঘোনা এলাকায় বনভূমির পাহাড় কেটে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বন বিট কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করেই প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেহেরঘোনা এলাকার আব্দু রশিদের ছেলে হারুনসহ চাঁদেরঘোনা এলাকার একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল করে পাহাড় কাটছে। পাহাড়ের মাটি কেটে সমান করে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও গাছ নিধনের মতো কর্মকাণ্ড চললেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, মেহেরঘোনা বিট কর্মকর্তা রাকিব সব জেনেও বিষয়টিকে এড়িয়ে চলছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাড়ির মালিক বলেন, “আমার বাড়ি নির্মাণের সময়ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।”

এ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ঈদগাঁও উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, “বনভূমির পাহাড় কেটে বসতবাড়ি নির্মাণ অত্যন্ত জঘন্য কাজ। আমরা অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মেহেরঘোনা বিট কর্মকর্তা রাকিব বলেন, “আমার স্টাফ, আমি অথবা আমার অফিসের কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে আপনারা যে ব্যবস্থা নেবেন, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
​এনিয়ে মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসমাঈল হোসেন জানান, “আমরা আগামীকাল বা পরশুর মধ্যে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করব।”
​এব্যাপারে সচেতন মহল মনে বলছেন, পাহাড় কাটার ফলে ওই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বনভূমি রক্ষায় দ্রুত পাহাড় কাটা বন্ধ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

সর্বাধিক পঠিত