পুলিশ আরও জানায়, রিকশা মেকানিক জাকির একজন বিকৃত যৌন রুচিসম্পন্ন মানুষ। তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করেন। তবে অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে পাঠানোর জন্য শিশুটিকে খুঁজতে থাকেন তার মা। পরে ওই ঘাতক দম্পতির ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, রামিসার স্যান্ডেল দেখে তার মা দরজায় নক করতে থাকেন। ঠিক সেসময়ই ফ্ল্যাটের ভেতরে ঘটানো হচ্ছিল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তবে দরজা নক করার শব্দ শুনতে পেয়েও দরজা খুলতে দেরি করেন ঘাতক মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী স্বপ্না। মূল ঘাতক মো. জাকির হোসেন জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়া পর দরজা খোলেন স্ত্রী স্বপ্না।
এ ঘটনায় জাকিরের স্ত্রী স্বপ্না এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, প্রতিবেশীর বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
ঘটনার পর পুলিশ স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করে। তবে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় জাকির। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, জাকির নারায়ণগঞ্জের একটি দোকানে তার বন্ধুর মাধ্যমে পাঠানো টাকা তুলতে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহায়তায় ডিএমপির টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে বিকাশের দোকান থেকেই মূল ঘাতক জাকিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর ওই ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।